আমি যতদিন আছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তিনি বলেন, যারা মিথ্যা তথ্য দেবে না, ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবে না তাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যতদিন আছি, ভয়ের কিছু নেই। তবে কারো বিরুদ্ধে কোন তথ্য কিংবা সংবাদ প্রকাশ করলে তা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে না পারলে সেই সাংবাদিক কিংবা সংশ্লিষ্টদের শাস্তি পেতে হবে। জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বুধবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সফরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরাই ছিল তার লক্ষ্য। লিখিত বক্তব্যের পর তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে। বা যারা ভুক্তভোগী হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে। আর তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবেন। ওই জায়গায় একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা স্মরণ করে দেখেন, বিবিসি একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিল। পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আর বিবিসির টপ টু বটম সবাইকে রিজাইন করতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আমি যখন বন্দী। আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ করা হলো। পরে সেটা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ওই পত্রিকার কোনও সাজা হলো না। কিন্তু তার সম্মান তো নষ্ট হলো। তাদের তো এই লজ্জা হয় না যে একটা মিথ্যা তথ্য দিল। কিন্তু যার সমাজে সম্মান নষ্ট হলো। তার তো সব গেল। পদ্মা সেতু নিয়ে যারা বড় বড় হেডলাইন লিখেছে, তারা তো এখনও সমাজে বুক উঁচু করে চলছে। কিন্তু পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে যে হেয়প্রতিপন্ন হলো; অসম্মান হলো তাদের কে দেখবে। শেখ হাসিনা বলেন, আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেফতার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। আগে তো চট করে ধরে নিতো। আর আপনারা এখন উদ্বিগ্ন। আমার যেটা মনে হয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক। বৈঠকে আমি এমন এমন মানুষ দেখেছি। যারা লেখা তৈরি করে বসে আছে। নির্বাচনের সিডিউল আমাদের ভালো করে গায়েল করার জন্য ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা ছাড়বে। কয়েকটা পত্রিকায় দেখেছি। ছাড়ছেও। তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা ভাবছে যে, এরকম একটা মিথ্যা নিউজ করব। এখন তো মাঠে মারা যাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যতদিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের যেটা দেয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছে- তাই দেয়া আছে। সেখানে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, তাদেরকে ট্র্যাক করার জন্য। এখন ট্র্যাক করার পর তো বসে থাকা যাবে না। তাকে তো ধরতে হবে। কারণ সে তো আমাদের জন্য বসে থাকবে না। সারা বিশ্ব এটাই করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিত আমি মনে করি। সেটা হলো- যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনও মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়; সে সাংবাদিক যে লিখবে, যে পত্রিকা বা মিডিয়া ইলেট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইস হোকÑ যে ব্যবহার করবে বা যে এটা প্রকাশ করবে, তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। এবং যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতিপূরণ হবে সেটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ইংল্যান্ডে আছে।

ইভিএম এর পক্ষে শেখ হাসিনা
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের পক্ষে নিজের মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আপনি সবচেয়ে প্রিয় জিনিস, টাকা মোবাইলফোনে পাঠাতে পারেন। ভোটটাও আপনার প্রিয় জিনিস, তো ভোটটাও কেন আপনি ইভিএমে দিতে পারবেন না? আমি ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, বরং এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা উচিত, যেন মোবাইল থেকেও মানুষ ভোট দিতে পারে। তাহলে আর ভোটকেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না। ইভিএমটা হোক। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) প্রজেক্ট পাস করে দিয়েছি। যেহেতু আমরা পাস করে দিয়েছি, তাহলে বুঝতেই পারেন, আমাদের মানসিকতা কী। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাদের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত করা আমাদের দায়িত্ব। আর সেটা মনে করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইভিএম ব্যবহারে আমার কোনও আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট হলে বেশি সুবিধা। মানুষ সহজে ভোট দিতে পারবে। সঙ্গে সঙ্গে আবার তা গুণে রেজাল্ট পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আগে সিল মেরে বাক্স ভরা যেতো। ভোটের বাক্স নিয়ে গেল একটা গুন্ডা, ২০টা গুন্ডা নির্বাচন প্রভাবিত করল। ইভিএম হলে সেই জায়গা থেকে মুক্তি মিলবে।

নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে আশা প্রধানমন্ত্রীর
আগামী জাতীয় (একাদশ সংসদ) নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হবে। দেশের মানুষও ভোট দেবে। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে কোনও দল আসবে, আর কোন দল আসবে না, সে সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না। তবে আমাদের আশা, সব দলই নির্বাচনে আসবে। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ২০১৪ এর নির্বাচনে আমার চেষ্টা ছিল, সবাই অংশ নিক। কিন্তু সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা হলো। আপনারা যাদের নির্বাচনে চাইছেন, তারা মানুষ পুড়িয়ে মারে। আর যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, তাদের জন্য এত কান্নাকাটি কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ এর নির্বাচন ঠেকানোর নামে যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তারা কেমন আছে, কেউ কি খোঁজ নিয়েছেন? আমি অনুরোধ করব, ওই সময় যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তাদের পরিবার কেমন আছে, তাদের খোঁজ নিন। মানুষ পুড়িয়ে মারার ওই অন্দোলনে অনেক মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের সংসার কেমন চলছে? যে দলের আন্দোলন মানুষ পুড়িয়ে মারা, তাদের জন্য এত মায়াকান্না কেন? তিনি বলেন, তাদের (বিএনপির) বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ আছে, মামলা আছে। ওই সব অভিযোগ-মামলার সাক্ষীও আছে অনেক। খালেদা জিয়া আর তার ছেলে, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কত কমিশন নিয়েছে। অনেকেই সাক্ষী দিতে প্রস্তুত। এফবিআই, গেটকো, নাইকো। তার দলের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। ২০ দলীয় জোট সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা জোট হচ্ছে আমি খুব খুশি। তাদের জোট করার জন্য যদি সহযোগিতা করা লাগে তবে তা আমি করব। কারণ আমরা জানি, বাংলাদেশে ভোট আছে দু’পক্ষে। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও আরেকটি হলো এন্টিআওয়ামী লীগ। এখন এন্টিআওয়ামী লীগ ভোটগুলোকেতো একটি জায়গায় যেতে হবে। তাদের জন্য একটি জোট হচ্ছে এবং সেখানে বড় বড় মানুষও আছে। জোট হওয়া তো ভালো কথা। আমার কথা হচ্ছে শত ফুল ফুটতে দিন। শেখ হাসিনা বলেন, জোট গঠন নির্বাচনের জন্য ভালো। তবে শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবে কিনা বা আসার সামর্থ্য তাদের আছে কিনা বা সে সাহস তাদের আছে কিনা সেটিও কিন্তু একটি প্রশ্ন।

ক্ষমতার জন্য বিদেশিদের মুখাপেক্ষী নই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার জন্য আমরা কারও (ভারত বা অন্য কোন রাষ্ট্রের) মুখাপেক্ষী আমরা নই। জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসব। না দিলে আসব না। আফসোস নেই। ইচ্ছা ছিল। একাধারে দুইবার ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। সেটা তো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের কাছে উন্নয়ন যাতে দৃশ্যমান হয় সেজন্য আমার ইচ্ছা ছিল পরপর দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকা। আমি তা পেরেছি। এখন আমার কাছে ক্ষমতা- থাকে লক্ষ্মী যায় বালাই। আমার কোনও চিন্তা নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়ন করেছিলাম তা বিএনপি আসার পর থেমে যায়। আমার ইচ্ছা ছিল আমি যদি একটানা দুইবার থাকতে পারি তবে উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হবে। মানুষ তার সুফলটা পাবে। দুই টার্ম থেকেছি। মানুষ তার সুফল পেয়েছে।

২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান করেছে আ’লীগ
শেখ হাসিনা বলেন, ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান করেছে আওয়ামী লীগ। ৮১ বছর পরে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই পরিকল্পনা হচ্ছে। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী করব। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হবো। তিনি বলেন, নৌকা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। কারণ, একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয়। ২০০৮ সালে যে দিন বদলের সনদ দিয়েছিলাম। উন্নতি হয়েছে। উন্নতি দৃশ্যমান।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের জোট আছে, জোট বড় করার কিছু নেই। তবে কেউ আমাদের সঙ্গে এলে তাকে স্বাগত জানাব।

কোটা বাতিল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরেন, কোটা নিয়ে এত আন্দোলন। মুক্তিযোদ্ধার নাতি বলে কোটা চাই না। এক মেয়ে বলে কোটা লাগবে না, প্রতিযোগিতা করে আসতে আমরা সক্ষম। আমার আর কী করার আছে। কোটা বাতিলই ভালো। এখন কেউ কোটা চাইলে আন্দোলন করে আদায় করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের উর্বর ভূমি। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে রাজনীতি করি। ২০ দলীয় জোটের সম্প্রসারণ নিয়ে আমার কোনও ভয় নেই। ভয় থাকে তার, যার হারানোর কিছু আছে। আমার হারানোর কিছু নেই। আমি আমার বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। আমরা দুই বোন আছি, আমাদের ছেলেমেয়ে আছে। তারা আপনাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে। দেশের জন্য কাজ করছে।

জাতির পিতার হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি তার সহকারীকে নোট নিতে বলেছেন। নোট নিয়েছে। আমরা আশাবাদী।

হেফাজতের সংবর্ধনার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের জনগণ খুশি, তারা দোয়া করবে। আমাদের শিক্ষানীতিতে আছে, সবাইকে নিয়ে শিক্ষা। দেশের ১৪/১৫ লাখ মাদরাসায় পড়ে। তাদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন শিক্ষা ব্যবস্থা একটা কাঠামোতে আসবে। আর উপমহাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কিন্তু মাদরাসা থেকেই শুরু। আর যাই বলি না কেন, আমি ধর্মীয় অনুভূতির বাইরে নই। ধর্মকে অস্বীকারও করি না। তবে খেয়াল রাখতে হবে ধর্মের অপব্যবহার যাতে না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছি। এখনই মন্তব্য করতে চাই না। দেখি শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা চলছে, মায়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তারা তিন হাজার জন করে ফেরত নেবে। যতদ্রুত সম্ভব পাঠানো যায়, চেষ্টা চলছে। ভাষানচরে স্থানান্তর। সরকারের পাশপাশি বিদেশি সাহায্যকারীরাও কক্সবাজারের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা দেবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ২১ সেপ্টেম্বর রওনা হয়ে দুদিন লন্ডনে কাটিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেদিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন তিনি। নিউইয়র্কে সফরের দ্বিতীয় দিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট অবসানে তিনটি প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব ‘পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দেন। সফরের মধ্যেই ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত হয়। সফর শেষে ১ অক্টোবর সকালে দেশে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্কে ছয়দিনের সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি সংকট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য নিউইয়র্কে ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে, যা তিনি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে বলেন, এ সম্মাননা তাদের জন্যই , তাদের প্রাপ্য।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.