অভিযানের পরেও থামেনি ঢামেকে মাদক ব্যবসা !

সারাদেশের মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা জন্য যে কয়টি নির্ভর যোগ্য মেডিকেল রয়েছে সেগুলো মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) অন্যতম। আর এই ঢামেকেই চলছে মাদক ব্যবসা। আর যার সাথে জড়িয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে মেডিকেলের সকল শ্রেণির কর্মচারীরা। কর্তৃপক্ষ দাবি তারা নিয়মিত মাদক নির্মূলের জন্য করে যাচ্ছে। তবুও থেমে নেই মাদক ব্যবসা ও সেবন।

খোদ ঢামেকের কতিপয় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেবিকা, রোগীর স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণির স্টাফ ও এম্বুলেন্স চালকের যোগসাজশে দিনের বেলা কমবেশি হলেও রাতে জমে উঠে ইয়াবার আসর। দিন-রাতে অন্তত ১০টি থেকে ১২টি স্পটে  থেকে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা  আর এই হাসপাতালের ভিতরেই বসবে এই মরণ ব্যাধি মাদকের আসর।

মে মাসের  ৩ তারিখে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ঝটিকা অভিযানে ইয়াবাসহ এক আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ৩৫ বছর বয়সের মো. আসাদুজ্জামান নামের এই  এই আনসার সদস্যের কাছে থেকে গ্রেফতারকালে ৯ পিস ইয়াবা উদ্ধারও করা হয় সে সময়।

র‌্যাবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আসাদুজ্জামান জানান,দীর্ঘদিন ধরে সে হাসপাতালে ইয়াবা বিক্রি করছে আসছিল।পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে  তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া ঢামের জরুরি বিভাগ এলাকা থেকে একই মাসের ৫ই মে ৭ জন মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে আটক করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃতরা হলেন, আলম মিয়া, শামীম, সোহেল, রনি, লিটন, সুবির বিশ্বাস ও শামীম মিয়া। পরে তাদের ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

টানা দুই দিন অভিযানের পরে কিছুটা শান্ত হলেও আবারো মাদক ব্যবসী ও  মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

আর এই অপরাধ দমনে  শাহবাগ থানা পুলিশ জুন মাসের ৯ তারিখ শনিবার রাতে অভিযান চালালে ইয়াবাসহ তুলি নামের ৩০ বছর বয়সী এক মহিলাকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, এই নারী অস্থায়ী ভিত্তিতে ঢামেকে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছিল। শুধু যে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে তা নয় হাসপাতালের পরিত্যক্ত অনেক স্থানগুলোতে ফেনসিডিল ও গাঁজার আসর বসছে নিয়মিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে দেশের অন্য সব জায়গায় মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে থাকলেও এখানে কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই চলছে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন চলছে সমান তালে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রাতের বেলা পুলিশি টহল, বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোসহ নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। মাদক নির্মূলে তারা কাজ করছে।

সূত্র বলছে, গত কয়েকদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, চাঁনখারপুল, শাহবাগ, চকবাজার, বংশাল এলাকার নামকরা মাদক ব্যবসায়ীরা হাসপাতালের ভেতর মাদক সাপ্লাই দেয়।

হাসপাতালে মাদক সরবরাহের পেছনে যারা অন্যতম তাদের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর, হাসান, পাপন, অনিক, জাফর, আসিক সুমন।বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এলাকায় রনি ও স্বপন। নতুন ভবনের সামনে চিনচিন, বিল্লাল হেদায়েত, মোমেন। ডা. মিলন অডিটরিয়াম এলাকায় বুলবুলি ও লাবু। এছাড়াও আয়েশা, বুলবুলি, বিল্লাল, লাভলুসহ আরো অনেকে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই বাচ্চু মিয়া সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা এ বিষয়টি বন্ধের জন্য কাজ করে চলেছি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে এম নাসির উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনার, ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যার এজন্য কিছুদিন আগে একজন আনসার সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ ও আনসারের টহল বাড়িয়েছি। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে যাতে ফুটেজ দেখে বহিরাগতদের চিহ্নিত করা যায়।পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। আপনাদের মনে রাখতে হবে ঢামেকে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ আসে। এদের মধ্যে কে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা চিহ্নিত করা কঠিন।’

Loading...