অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকান্ডে বেকায়দায় আ’লীগ।

বিডি টাইপ ডটকম:-দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ করলে আর কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের অতি উৎসাহী নেতাকর্মীদের হাতে সংঘটিত বেশকিছু বিতর্কিত ঘটনায় বেকায়দায় পড়েছে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। একই অভিযোগ দলটির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের নেতাদেরও। নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর দলকে জনবিচ্ছিন্ন করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সবই ভেস্তে গেছে। আবারও একই ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে ১টি কুচক্রিমহল। তারা সরকার ও দলের ভেতরে-বাইরে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে বরগুনার ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের মারমুখী ভূমিকা ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টি হারানোর পর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সবচেয়ে বেশি। এজন্য দল ও সরকারের ভেতরে থাকা অতি উৎসাহীদের দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, এগুলো দলের ভেতরে অনুপ্রবেশের কুফল। দলের ভেতরে যেমন অনুপ্রবেশকারীতে ঠাসা, তেমনি সরকারের ভেতরেও বিভিন্ন পদে সুযোগসন্ধানীরা ভরা। এ কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।
সরকারি দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, এসব ঘটনা হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। এর পেছনে আগামী নির্বাচন ১টি উদ্দেশ্য হতে পারে। এগুলো ঘটিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগকে সমালোচনার মুখোমুখি করে দলের জনপ্রিয়তায় ধস নামানোর চক্রান্তে লিপ্ত অনুপ্রবেশকারীরা। তারা মনে করছেন, বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ইচ্ছে করে বিব্রতকর কর্মকা- ঘটানো হচ্ছে। এখনই এই চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বড় ধরনের ঘৃণিত কাজে লিপ্ত হতে পারে ষড়যন্ত্রকারীরা।
এ বিষয়ে সরকারের ২ জন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটাতে সরকার ও দলের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় অতি উৎসাহী মহল ঘাপটি মেরে বসে আছে। এর উদ্দেশ্য, আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে কিছু বিতর্কিত ঘটনার মুখোমুখি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। ঐ ২ মন্ত্রী আরও জানান, এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ১ জন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুযোগসন্ধানীরা শুধু দলের ভেতরেই যে ঘাপটি মেরে বসে আছেন তা নয়, সরকারের ভেতরেও তাদের অস্তিত্ব আছে। বিভিন্ন সময়ে এই অতি উৎসাহীরা যেমন বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন, তেমনি দলের ভেতরেও তারা কাজ করছেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এরই উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বরিশালের ইউএনওকে নাজেহালের ঘটনায় যে আইনজীবী মামলা করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, তিনিও অতি উৎসাহীদের ১ জন। তিনি বলেন, এই মন্তব্য স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দল ও সরকারের সুবিধাভোগী মহল জায়গা করে নেয়। আর এই মহলটি প্রকৃত নেতাকর্মীর চেয়ে যেকোনো কিছুতেই বেশি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। যাদের অতি উৎসাহী বলা হয়। এই অংশ তৈরি হয় ক্ষমতাকে ঘিরে। এই গ্রুপের কাজই হলো অনেক ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী রয়েছেন যাদের সাথে এ সকল ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা বলছি না যে আওয়ামী লীগে সব নেতাকর্মীই ভালো। তবে যাদের সাথেই এ ধরনের ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, অতি উৎসাহী হোক আর যাই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বরিশালের ইউএনও’র ঘটনায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে তথ্য বের হয়ে এলে অতি উৎসাহীরা চিহ্নিত হবেন। তাদের শাস্তির আওতায় আসতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে সরকার অনেক বেশি সতর্ক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে ২১ জুলাই শুক্রবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা জানান, ঐ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা অতি উৎসাহী হয়ে ছোট ছোট অনেক বিষয়কে বড় করে দলের নেতাদের চেয়ে বেশি এগিয়ে আসবেন। একটি অঘটন ঘটিয়ে দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করবেন। তাই অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে আগেভাগে সতর্ক হতে হবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দলের ভামূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ করলে কোনো নেতাকর্মীকে ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি তাদের দলের কোনো দায়িত্বশীল পদে রাখা হবে না।

Loading...